নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন
কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারী লোগো
কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারীসুদমুক্ত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন প্রকল্প
দান
প্রতিষ্ঠান পরিচিতিতে ফিরে যানপ্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য, রূপকল্প ও মূল্যবোধ দলিল
প্রাতিষ্ঠানিক দর্শন ও নীতিগত রূপরেখা

আমাদের লক্ষ্য, রূপকল্প ও মূল মূল্যবোধ

সুদমুক্ত নৈতিক অর্থনীতির মাধ্যমে শোষণহীন, আত্মমর্যাদাশীল ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণের পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত দলিল।

প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্যমাত্রা (Institutional Mission)

আমাদের লক্ষ্য (Our Mission)

নিবন্ধিত পরিধি: রৌমারী উপজেলা ও বৃহত্তর কুড়িগ্রাম • প্রকাশকাল: অক্টোবর ২০২৬

১.১ পটভূমি ও ঐতিহাসিক মানবিক সংকট

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা ভৌগোলিক ও সামাজিকভাবে বাংলাদেশের অন্যতম সবচেয়ে অবহেলিত, যোগাযোগ-বিচ্ছিন্ন ও নদীভাঙনপ্রবণ একটি জনপদ। ব্রহ্মপুত্র, জিনজিরাম ও কালজানি নদীর করাল গ্রাসে প্রতি বছর হাজারো কৃষক, খেটে খাওয়া দিনমজুর ও জেলে তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়। যখন একজন দরিদ্র পিতা তার চোখের সামনে নিজের জমি নদীগর্ভে বিলীন হতে দেখেন এবং তার পরিবারের খাদ্যের সংস্থান বন্ধ হয়ে যায়, তখন তিনি নিরুপায় হয়ে স্থানীয় মহাজন কিংবা বেসরকারি চড়া সুদী ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্বারস্থ হতে বাধ্য হন। রৌমারীর চরাঞ্চলে সুদের এই শোষণ শতাব্দী প্রাচীন। এখানে তথাকথিত এনজিও এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক সুদি মহাজনরা এমন চড়া শর্তে ঋণ প্রদান করে যা কোনো মানবিক বিবেক সমর্থন করতে পারে না। শতকরা ১০ থেকে ৩০ শতাংশ সাপ্তাহিক ও মাসিক সুদের চক্রবৃদ্ধির চাপে দরিদ্র ঋণগ্রহীতারা তাদের সামান্য শ্রমের সমস্ত ফসল সুদের কিস্তি দিতেই বিলীন করে দেন। সুদের কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে চরের বহু মানুষকে নিজের শেষ গরু-বাছুর, চাষের লাঙল এমনকি ভিটেমাটির অংশ পর্যন্ত বিক্রি করে রাতের আঁধারে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। সুদের এই অভিশাপ পরিবারগুলোতে কলহ, অশান্তি, আত্মহত্যা এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দারিদ্র্যের স্থায়ী দাসত্ব তৈরি করেছে।

১.২ কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশনের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও প্রতিশ্রুতি

এই ভয়াবহ মানবিক ও নৈতিক সংকটের পটভূমিতে কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারী একটি অটল ও পবিত্র লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে: **"কুড়িগ্রামের সীমান্তবর্তী ও নদীভাঙন কবলিত অসহায় মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ১০০% সুদমুক্ত কর্জ প্রদান এবং জরুরি মানবিক সহায়তার মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত, আত্মমর্যাদাশীল সমাজ বিনির্মাণ।"** আমাদের লক্ষ্য কোনো সাময়িক রিলিফ বা মৌসুমি সাহায্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আমরা বিশ্বাস করি, কেবল এক প্যাকেট চাল বা একটি কম্বল বিতরণ করে একজন মানুষকে দারিদ্র্যের স্থায়ী কারাগার থেকে মুক্ত করা যায় না। দান মানুষকে সাময়িক বাঁচিয়ে রাখে, কিন্তু সুদহীন মূলধন মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড় করায়। তাই আমাদের লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দু হলো **'তহবিল খ' (কর্জে হাসানা ঘূর্ণায়মান তহবিল)**, যার মাধ্যমে কর্মক্ষম কিন্তু পুঁজিহীন মানুষকে ০% সুদে আসল-ফেরতযোগ্য মূলধন সরবরাহ করা হয়।

১.৩ লক্ষ্যের পাঁচটি কৌশলগত ভিত্তিস্তম্ভ

এই মহৎ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ফাউন্ডেশন পাঁচটি সুস্পষ্ট কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে: ১. **সুদমুক্ত অর্থনীতির কার্যকর বিকল্প প্রতিষ্ঠা:** রৌমারী অঞ্চলের প্রতিটি ইউনিয়নে (রৌমারী সদর, যাদুরচর, শৌলমারী, দাঁতভাঙ্গা, বন্দবেড়) এমন একটি সুদমুক্ত আর্থিক সেফটি-নেট গড়ে তোলা, যাতে কোনো চরম অভাবগ্রস্ত কৃষক বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে সুদি মহাজনদের দরজায় হাত পাততে না হয়। ২. **ঘূর্ণায়মান মূলধনের টেকসই সুরক্ষা:** একটি একক ঘূর্ণায়মান মূলধন পুল পরিচালনা করা, যেখানে এক ব্যক্তির পরিশোধিত আসল টাকা পুনরায় অন্য একজন কর্মহীন মানুষের হাতে চলে যাবে। এর মাধ্যমে টাকার কোনো অপচয় হয় না; বরং একই সম্পদ চক্রাকারে শত শত পরিবারকে স্বাবলম্বী করে তোলে। ৩. **চরম অভাবীদের জন্য দ্বি-তহবিলীয় মানবিক নিরাপত্তা:** যারা বার্ধক্য, পঙ্গুত্ব, মারাত্মক ব্যাধি কিংবা বিধবা হওয়ার কারণে ঋণ পরিশোধে অক্ষম, তাদের জন্য সম্পূর্ণ পৃথক **'তহবিল ক' (স্থায়ী দান, যাকাত ও সদকা তহবিল)** থেকে সরাসরি খাদ্য, ওষুধ ও ঘর নির্মাণ সহায়তা প্রদান করা। ৪. **নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও গৃহস্থালী জীবিকা:** চরের নারীদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন অনুদান, হাঁস-মুরগি পালন এবং ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ করে তাদের পরিবারের একটি স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করা। ৫. **আমানত ও হিসাবের পরম পবিত্রতা রক্ষা:** সাধারণ মানুষের প্রতিটি দান এবং বিনিয়োগকারীর প্রতিটি ফেরতযোগ্য মূলধনের হিসাব আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দ্বৈত-দাখিলা (Double-Entry Ledger) পদ্ধতির মাধ্যমে ওয়েবসাইটে শতভাগ উন্মুক্ত রাখা, যাতে বাংলাদেশের আর্থিক ইতিহাসে স্বচ্ছতার এক অনন্য মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা সংকল্পবদ্ধ যে, রৌমারীর মাটিতে কোনো সৎ কর্মঠ মানুষ কেবল কয়েক হাজার টাকার মূলধনের অভাবে কর্মহীন থাকবে না এবং কোনো পরিবারকে সুদের চাবুকে সর্বস্ব হারাতে হবে না। ইনশাআল্লাহ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং মানবসেবাই আমাদের এই লক্ষ্যের একমাত্র চালিকাশক্তি।
ভবিষ্যৎ রূপকল্প ও স্বপ্ন (Institutional Vision)

আমাদের রূপকল্প (Our Vision)

দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা: ২০২৬–২০৩৫ • সুদমুক্ত নৈতিক সমাজের স্বপ্ন

২.১ আমরা কেমন সমাজ দেখতে চাই?

কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশনের রূপকল্প একটি উজ্জ্বল, ইনসাফভিত্তিক ও মানবিক আগামীর স্বপ্নে প্রোথিত: **"একটি সুষম, শোষণমুক্ত ও সহানুভূতিশীল সমাজ ব্যবস্থা—যেখানে কোনো অভাবী মানুষকে সুদের কঠিন শিকলে বন্দি হতে হবে না; যেখানে প্রতিটি প্রান্তিক মানুষ নৈতিক আর্থিক সহযোগিতা, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও মানবিক মর্যাদার সাথে নিজের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।"** আমরা এমন একটি রৌমারী ও উত্তরবঙ্গের স্বপ্ন দেখি, যেখানে নদীভাঙনে নিঃস্ব হওয়া কোনো কৃষককে আর দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে নিজের ভবিষ্যতের ফসল আগাম পানির দরে বিক্রি করতে হবে না। আমরা এমন একটি সমাজ কল্পনা করি যেখানে একজন ক্ষুদ্র চা-দোকানী, একজন সবজি বিক্রেতা কিংবা একজন ফেরিওয়ালা মাত্র দশ-বিশ হাজার টাকার পুঁজিস্বল্পতার জন্য মহাজনের কাছে জিম্মি হবেন না। যেখানে সমাজের বিত্তবানরা তাদের উদ্বৃত্ত অলস অর্থ ব্যাংক একাউন্টে ফেলে না রেখে অথবা সুদের লোভে বিনিয়োগ না করে, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য 'কর্জে হাসানা' হিসেবে সমাজের পিছিয়ে পড়া ভাইদের মাঝে বিলিয়ে দেবেন—যেখানে আসল টাকা যথাসময়ে অক্ষত অবস্থায় ফেরত আসবে এবং সমাজে বরকত ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।

২.২ ভিশন ২০৩৫: দশ বছরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা

আমাদের এই রূপকল্প কেবল একটি অলীক স্বপ্ন নয়; বরং এটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও পর্যায়ক্রমিক মাইলফলকের ওপর প্রতিষ্ঠিত: ১. **৫,০০০ পরিবারকে সম্পূর্ণ দারিদ্র্য ও ঋণমুক্তকরণ:** ২০৩৫ সালের মধ্যে রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার অন্তত ৫,০০০ চরম দরিদ্র পরিবারকে সুদমুক্ত কর্জ ও জীবিকা উপকরণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা, যাতে তারা নিজেরাই পরবর্তীতে অনুদান ও কর্জ তহবিল প্রদানে সক্ষম হন। ২. **১০ কোটি টাকার একটি টেকসই 'ঘূর্ণায়মান কর্জ তহবিল' গঠন:** দেশ-বিদেশের শুভাকাঙ্ক্ষী, প্রবাসী ভাইবোন ও নৈতিক ব্যবসায়ীদের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে একটি স্থায়ী ও বৃহৎ তহবিল গড়ে তোলা, যা রৌমারীর ক্ষুদ্র অর্থনীতিকে সুদী ব্যাংকিং ও এনজিওদের প্রভাবমুক্ত করতে সক্ষম হবে। ৩. **জরুরি দুর্যোগে তাৎক্ষণিক মানবিক সাড়া প্রদানের সক্ষমতা:** নদীভাঙন ও বন্যায় পানিবন্দী পরিবারগুলোর জন্য একটি নিজস্ব উদ্ধারকারী বোট অ্যাম্বুলেন্স, সার্বক্ষণিক খাদ্য ভাণ্ডার (Emergency Grain Bank) এবং জরুরি আশ্রয়স্থল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। ৪. **কমিউনিটি দক্ষতা ও ডিজিটাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র:** চরাঞ্চলের তরুণ-তরুণীদের আধুনিক কারিগরি শিক্ষা, কম্পিউটার জ্ঞান ও ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষ করে তুলতে বিনামূল্যে আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব ও যুব প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা। ৫. **জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মডেল রেপ্লিকেশন:** রৌমারীর মতো চরম পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে সুদমুক্ত কর্জে হাসানা এবং উন্মুক্ত আর্থিক হিসাববিজ্ঞানের সফল প্রয়োগ সারা বাংলাদেশের জন্য একটি রোল মডেল হবে। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যা দেখে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় শিক্ষিত তরুণ ও দ্বীনদার সমাজসেবকরা নিজ নিজ এলাকায় সুদহীন কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন গড়ে তুলতে উৎসাহিত হবেন।

২.৩ অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও সামাজিক ভ্রাতৃত্বের মেলবন্ধন

পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থা মানুষকে শুধু নিজের মুনাফা দেখতে শেখায়; সেখানে মানুষের অভাবকে পুঁজি করে কীভাবে অতিরিক্ত সুদ আদায় করা যায়—তাই থাকে মূল লক্ষ্য। পক্ষান্তরে ইসলামী অর্থনীতির সৌন্দর্য হলো কর্জে হাসানা—যেখানে সম্পদ এক জায়গায় পুঞ্জীভূত না হয়ে সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রবাহিত হয়। আমাদের রূপকল্প হলো সমাজ থেকে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ও হিংসা দূর করে পারস্পরিক মুহাব্বত ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি করা। যখন একজন দরিদ্র মানুষ অনুভব করবেন যে সমাজের বিত্তবানরা তার কাছে কোনো সুদ চায় না, তার রক্ত চুষে খেতে চায় না, বরং নিঃস্বার্থভাবে তাকে ভাই হিসেবে ভালোবেসে এগিয়ে দিচ্ছে—তখন সমাজে এক অভূতপূর্ব ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির আবহ তৈরি হবে। এই শোষণহীন, মর্যাদাশীল ও বরকতময় সমাজ বিনির্মাণই আমাদের পরম রূপকল্প।
নৈতিক নীতিমালা ও মূল মূল্যবোধ (Core Ethical Values)

আমাদের মূল মূল্যবোধ (Core Values)

প্রতিটি সিদ্ধান্ত, ব্যয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মে অলঙ্ঘনীয় পাঁচটি মূলনীতি

কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারী কোনো সাধারণ এনজিও বা গতানুগতিক সংস্থা নয়। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ, আর্থিক সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক নীতি পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর চিরন্তন নৈতিক মূলবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা নিম্নোক্ত পাঁচটি অলঙ্ঘনীয় মূল মূল্যবোধকে আমাদের অস্তিত্বের চালিকাশক্তি মনে করি:

১. আল-আমানাহ (পবিত্র আমানতদারিতা ও কঠোর তহবিল বিভাজন)

আমানতদারিতা আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক অস্তিত্বের প্রথম ও প্রধান শর্ত। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে নির্দেশ দিয়েছেন: *"নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার প্রাপকদের কাছে পৌঁছে দিতে।"* (সূরা আন-নিসা: ৫৮)। ফাউন্ডেশনের সবচেয়ে বড় স্বাতন্ত্র্য হলো আমাদের **দ্বি-তহবিল কঠোর বিভাজন নীতি (Strict Fund Segregation)**: - **তহবিল 'ক' (দান ও যাকাত):** এটি শুধু অনুদান, ত্রাণ, খাদ্য ও পুনর্বাসনে ব্যয় হয়। এর কোনো টাকা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয় না। - **তহবিল 'খ' (কর্জে হাসানা মূলধন):** এটি ১০০% ফেরতযোগ্য ব্যবসায়িক ঋণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর কোনো অংশ অন্য কোনো খাতে অপচয় বা খরচ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। কোনো অবস্থাতেই এক তহবিলের টাকা অন্য তহবিলের সাথে মিশ্রিত করা হয় না। প্রতিটি পয়সার ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও পৃথক ক্যাশ লেজার শতভাগ আলাদা রাখা হয়।

২. আল-ইহসান ও কর্জে হাসানা (নিঃস্বার্থ উত্তম ঋণ ও সুদহীনতা)

সুদ হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শামিল (সূরা আল-বাকারা: ২৭৯)। পক্ষান্তরে কর্জে হাসানা হলো আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ঋণ। আমাদের নীতি হলো: - **০% সুদ ও ০% লাভ:** আমরা ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে মূল অর্থের অতিরিক্ত এক পয়সাও গ্রহণ করি না। - **০% গোপন চার্জ বা ফাইল ফি:** কোনো আবেদন ফি, সার্ভিস চার্জ, বাধ্যতামূলক বীমা বা প্রশাসনিক কর্তন নেই। - **সহমর্মিতা ও অবকাশ:** যদি কোনো সুবিধাভোগী বাস্তব কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অসুস্থতার কারণে কিস্তি পরিশোধে সাময়িক অপারগ হন, তবে তাকে কোনো জরিমানা বা মানসিক চাপ দেওয়া হয় না; বরং পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী তাকে সচ্ছলতা না আসা পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া হয়।

৩. আস-সিদ্ক ও আশ-শাফাফিয়্যাহ (প্রকাশ্য আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা)

আমরা কোনো প্রকার গোপন লেনদেন বা কাল্পনিক হিসাবে বিশ্বাস করি না। সত্যবাদিতা ও স্বচ্ছতা আমাদের আত্মার অংশ: - প্রতিটি দানকারী তার অনুদানের প্রতিটি টাকার জন্য তাৎক্ষণিক ডিজিটাল ভাউচার ও ট্র্যাকিং পান। - ওয়েবসাইটের আর্থিক স্বচ্ছতা ও অডিট পেজে সাধারণ খতিয়ান (General Ledger), ব্যাংক স্থিতি, বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ও আদায়যোগ্য বকেয়া রিয়েল-টাইমে প্রকাশিত থাকে। - রৌমারীর সম্মানিত খতিব, আইনজীবী ও সুধীজনদের নিয়ে গঠিত অডিট কমিটি নিয়মিত অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষা করেন।

৪. আল-ইতকান (কার্যকুশলতা, সুশৃঙ্খলতা ও পেশাদার পরিচালনা)

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: *"নিশ্চয়ই আল্লাহ ভালোবাসেন যে, তোমাদের কেউ যখন কোনো কাজ করবে, তা যেন নিখুঁত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করে।"* (বায়হাকী)। আমরা একটি অলাভজনক সংস্থা হলেও আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক করপোরেট ও সুশৃঙ্খল ব্যাংকিং মানদণ্ডে পরিচালিত হয়। আবেদন যাচাই, সরেজমিন পরিদর্শন, ডিজিটাল ডেটাবেজ সংরক্ষণ, এসএমএস নোটিফিকেশন এবং প্রতিটি বিতরণ ও কিস্তি আদায় সম্পূর্ণ সফটওয়্যার ও আধুনিক ডেটাবেজের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় যাতে কোনো মানবিক ত্রুটি বা দীর্ঘসূত্রতা না ঘটে।

৫. কারামাতুল ইনসান (মানবিক মর্যাদা ও পরনির্ভরশীলতামুক্ত স্বাবলম্বন)

আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন: *"আমি বনি আদমকে সম্মানিত করেছি।"* (সূরা বনি ইসরাঈল: ৭০)। দরিদ্র মানুষ কোনো করুণার পাত্র নন; তারা আমাদের দ্বীনি ভাই ও সম্মানিত নাগরিক। তাই: - সাহায্য বা কর্জ বিতরণের সময় কাউকে রোদে লাইনে দাঁড় করিয়ে বা অপমানজনক ছবি তুলে প্রচার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। - আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা সুবিধাভোগীদের বাড়ি গিয়ে সম্মান ও হাসিমুখে সেবা পৌঁছে দেন। - আমাদের প্রতিটি কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো মানুষকে চিরতরে সাহায্যপ্রার্থী রাখা নয়, বরং তাকে স্বাবলম্বী করে দানকারী হাতে (উঁচু হাতে) রূপান্তর করা।

এই পাঁচটি মূল মূল্যবোধের ওপর ভর করেই কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত এই আদর্শ অক্ষুণ্ণ থাকবে, ইনশাআল্লাহ।