নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন
কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারী লোগো
কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারীসুদমুক্ত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন প্রকল্প
দান
সকল মানবিক কর্মসূচি
মানবিক কর্মসূচিস্বাবলম্বীকরণ ও টেকসই জীবিকা উন্নয়ন
তহবিল 'খ' ও 'ক' • টেকসই কর্মসংস্থান

স্বাবলম্বীকরণ ও টেকসই জীবিকা উন্নয়ন

ক্ষুদ্র ব্যবসা, কারিগরি উপকরণ ও হাঁস-মুরগি/গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে স্থায়ী আত্মনির্ভরশীলতা

প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা: ৳ ৫,০০,০০০ (চলতি পর্ব)১০০% আমানতদারিতা ও আলাদা ব্যাংক লেজার
১

মাঠপর্যায়ের সেবার বিবরণ ও বাস্তবতা

ত্রাণ ও দান মানুষকে সাময়িক বেঁচে থাকার অবলম্বন দেয়, কিন্তু দারিদ্র্য থেকে চিরতরে মুক্তি দিতে পারে না। একজন মানুষকে পরনির্ভরশীল না করে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে দেওয়াই হলো সবচেয়ে টেকসই ও সম্মানজনক মানবিক কাজ। রৌমারীর খেটে খাওয়া কর্মঠ মানুষের মূল সমস্যা অলসতা নয়; তাদের মূল সমস্যা হলো কাজের উপযুক্ত পুঁজি ও উপকরণের অভাব। সুদের মহাজনী ফাঁদে পড়ে তাদের সমস্ত শ্রমের ফসল চলে যায় অন্যের পকেটে। কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশনের 'স্বাবলম্বীকরণ ও টেকসই জীবিকা উন্নয়ন কর্মসূচি' দরিদ্র পরিবারগুলোকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার একটি সমন্বিত মডেল। আমরা তাদের দক্ষতা ও বাস্তব সামর্থ্য যাচাই করে সুনির্দিষ্ট আয়ের পথ তৈরি করে দিই। আমাদের স্বাবলম্বীকরণ কার্যক্রমের প্রধান ক্ষেত্রসমূহ: ১. ক্ষুদ্র ব্যবসা সম্প্রসারণ: গ্রামীণ মুদি দোকান, সবজি ব্যবসা, মাছের ব্যবসা বা ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালাদের সুদমুক্ত ঘূর্ণায়মান কার্যকরী মূলধন প্রদান। ২. কারিগরি উপকরণ অনুদান: দুস্থ ও বিধবা নারীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ শেষে নতুন সেলাই মেশিন ও হস্তশিল্পের উপকরণ প্রদান, যাতে তারা ঘরে বসে সম্মানজনক আয় করতে পারেন। ৩. কৃষি ও পশুসম্পদ সহায়তা: দরিদ্র কৃষক ও ভূমিহীন দিনমজুরদের ছাগল/ভেড়া ও দুগ্ধবতী গাভী ক্রয়ে অর্থায়ন, যা বংশবৃদ্ধি করে কয়েক বছরের মধ্যে একটি পরিবারের স্থায়ী সম্পদে রূপ নেয়। ৪. যানবাহন ও পরিবহন সহায়তা: কর্মঠ যুবকদের রিকশা, ভ্যান বা অটোরিকশা কেনার জন্য সুদহীন অর্থায়ন প্রদান। ৫. আর্থিক ও বাণিজ্যিক পরামর্শ: প্রতিটি উপকারভোগীকে আয় বৃদ্ধি, অপচয় রোধ ও অর্থ সঞ্চয়ের নিয়মিত পরামর্শ প্রদান করা হয়।
২

কোরআন ও হাদিসের আলোকে কাজের সওয়াব ও মর্যাদা

ইসলাম ভিক্ষাবৃত্তি ও পরনির্ভরশীলতাকে চরমভাবে নিরুৎসাহিত করে এবং নিজের হাতে হালাল উপার্জনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করাকে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার কাজ হিসেবে ঘোষণা করেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: "কোনো ব্যক্তি নিজের হাতের উপার্জনের চেয়ে উত্তম খাদ্য কখনো খায়নি। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে খেতেন।" (সহীহ বুখারী: ২০৭২)। একবার এক আনসারী সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কিছু সাহায্যের জন্য এলেন। নবীজী তাকে নগদ সাহায্য না দিয়ে তার ঘরে থাকা একটি কম্বল ও একটি পাত্র নিলামে দুই দিরহামে বিক্রি করালেন। এক দিরহাম দিয়ে পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা করতে বললেন এবং বাকি এক দিরহাম দিয়ে একটি কুঠার কিনে এনে নিজ হাতে তাতে হাতল লাগিয়ে দিলেন। এরপর বললেন: "যাও, জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে বিক্রি করো এবং পনেরো দিন আমার কাছে আসবে না।" পনেরো দিন পর সেই ব্যক্তি দশ দিরহাম উপার্জন করে সন্তুষ্টচিত্তে ফিরে এলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "এটা তোমার জন্য কিয়ামতের দিন ভিক্ষাবৃত্তির কলঙ্ক নিয়ে উপস্থিত হওয়ার চেয়ে অনেক উত্তম।" (সুনানে আবু দাউদ: ১৬৪১)। কাউকে এমন একটি আয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া যার দ্বারা সে ও তার পরিবার সারাজীবন হালাল রিজিক ভোগ করে—তা সদকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত এবং সর্বোত্তম দান।
সূরা আল-জুমুআহ (আয়াত: ১০)আল-কোরআনুল কারীম

"অতঃপর সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ (হালাল জীবিকা) সন্ধান করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।"

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুপবিত্র বাণীসূত্র: সহীহ বুখারী: ২০৭২

"নিজের হাতের উপার্জনের চেয়ে উত্তম খাবার কেউ কখনো খায়নি। আল্লাহর নবী দাউদ (আ.) নিজ হাতে উপার্জন করে আহার করতেন।"

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুপবিত্র বাণীসূত্র: সহীহ বুখারী ও মুসলিম

"উপরে থাকা হাত (দানকারী হাত) নিচে থাকা হাত (গ্রহণকারী হাত) অপেক্ষা উত্তম।"

৩

ইসলামী শরীয়াহ ও ফিকহী নীতিমালা

শরীয়াহর দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তিকে অভাব থেকে মুক্ত করে স্বাবলম্বী করে দেওয়া সাধারণ ত্রাণের চেয়ে বহুগুণ শ্রেয়। ফিকহবিদগণ একমত যে, যাকাতের অর্থ দিয়ে অভাবী ব্যক্তিকে এমন উপকরণ কিনে দেওয়া সম্পূর্ণ জায়েয ও উত্তম, যা দ্বারা তার স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি হয় (যেমন কারিগরি সরঞ্জাম, রিকশা বা ব্যবসার পুঁজি)। ফাউন্ডেশন এখানে দুটি স্বতন্ত্র মডেল অনুসরণ করে: ১. চরম নিঃস্বদের ক্ষেত্রে অনুদান (তহবিল ক থেকে উপকরণ উপহার)। ২. কর্মক্ষম ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সুদমুক্ত কর্জে হাসানা (তহবিল খ থেকে ফেরতযোগ্য পুঁজি), যা পরিশোধের পর অন্য আরেকজন কর্মহীন ভাইকে প্রদান করা হয়। এর ফলে একই অর্থ বারবার সমাজে কল্যাণ ছড়ায়।
৪

রৌমারীতে মাঠপর্যায়ের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রৌমারীর চর শৌলমারী ও যাদুরচরে বহু পরিবার এখন ফাউন্ডেশনের সেলাই মেশিন ও ক্ষুদ্র পুঁজি নিয়ে নিজেদের সংসারে সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। আমাদের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো প্রতি বছর অন্তত ১০০টি পরিবারকে চরম দারিদ্র্যসীমার বাইরে নিয়ে আসা এবং রৌমারীকে সুদখোর মহাজনদের প্রভাবমুক্ত একটি আত্মমর্যাদাশীল অঞ্চলে রূপান্তর করা।
তহবিল 'ক' • দান ও সদকা

এই কর্মসূচিতে আপনার হাত বাড়িয়ে দিন

আপনার প্রতিটি পয়সা সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্টভাবে এই সেবায় ব্যয় হবে। প্রতিটি খরচের রশিদ সংরক্ষিত ও প্রকাশিত।

অন্যান্য মানবিক কর্মসূচিসমূহ

খাদ্য সহায়তা ও পুষ্টি নিরাপত্তা কর্মসূচিচরের অনাহারী ও চরম দরিদ্র পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণজরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচিচিকিৎসাহীন দরিদ্র রোগীদের ওষুধ, অস্ত্রোপচার ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা অনুদানশীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ কর্মসূচিকুড়িগ্রামের হিমশীতল উত্তরের চরে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের উষ্ণতা নিশ্চিতকরণদরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিমেধাবী কিন্তু চরম অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও শিক্ষাসামগ্রী অনুদানবন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন জরুরি ত্রাণ কর্মসূচিনদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চরের মানুষের তাৎক্ষণিক উদ্ধার, আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা