নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন
কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারী লোগো
কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারীসুদমুক্ত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন প্রকল্প
দান
সকল মানবিক কর্মসূচি
মানবিক কর্মসূচিজরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি
তহবিল 'ক' • চিকিৎসা অনুদান

জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি

চিকিৎসাহীন দরিদ্র রোগীদের ওষুধ, অস্ত্রোপচার ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা অনুদান

প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা: ৳ ৩,০০,০০০ (চলতি পর্ব)১০০% আমানতদারিতা ও আলাদা ব্যাংক লেজার
১

মাঠপর্যায়ের সেবার বিবরণ ও বাস্তবতা

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা জেলা শহর থেকে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন। চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর অপ্রতুলতা এবং চরম দারিদ্র্যের কারণে শত শত মানুষ সামান্য চিকিৎসার অভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করে কিংবা অকালে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। একজন দিনমজুর বা রিকশাচালক যখন কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত হন, তখন তার পরিবারের একমাত্র আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যায়। ওষুধ কেনার টাকা না থাকায় অনেকেই মহাজনের কাছ থেকে দৈনিক চড়া সুদে ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হন। কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারী 'জরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি'-এর মাধ্যমে এমন অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে। আমরা রোগীদের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন), টেস্ট রিপোর্ট এবং আর্থিক অবস্থা সরাসরি তদন্ত করে চিকিৎসার সম্পূর্ণ বা আংশিক ব্যয় বহন করি। আমাদের চিকিৎসা সহায়তার আওতাভুক্ত সেবাসমূহ: ১. জীবনরক্ষাকারী প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ। ২. অসহায় রোগীদের ল্যাব টেস্ট, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে ও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার ফি পরিশোধ। ৩. দরিদ্র রোগীদের জরুরি অস্ত্রোপচার (সার্জারি), অ্যাপেন্ডিসাইটিস, হার্নিয়া ও প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ান সেবার হাসপাতাল বিল অনুদান। ৪. জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত (যেমন কিডনি ডায়ালাইসিস, ক্যান্সার, স্ট্রোক) রোগীদের বিশেষ মানবিক ফান্ড থেকে এককালীন থোক সহায়তা। ৫. প্রত্যন্ত চরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে বিনামূল্যে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক নিজে একজন স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোক্তা ও লাইফ কেয়ার হাসপাতালের দায়িত্বশীল হওয়ায়, স্থানীয় হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে সমন্বয় করে ওষুধ ও প্যাথলজি পরীক্ষায় বিশেষ ছাড় ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
২

কোরআন ও হাদিসের আলোকে কাজের সওয়াব ও মর্যাদা

ইসলামে একজন অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তার সেবা করা এবং তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করাকে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম বলা হয়েছে। সহীহ মুসলিমের একটি সুপরিচিত হাদিসে কুদসীতে এসেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে বলবেন: "হে বনি আদম! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, অথচ তুমি আমার সেবা করোনি।" বান্দা বলবে: "হে আমার রব! আপনি তো সারা জাহানের প্রতিপালক, আমি কীভাবে আপনার সেবা করব?" তখন আল্লাহ বলবেন: "তুমি কি জানতে না যে আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি যদি তার সেবা করতে বা পাশে দাঁড়াতে, তবে সেখানে আমাকেই পেতে।" (সহীহ মুসলিম: ২৫৬৯)। কোনো মুমিনের একটি জটিল রোগ থেকে মুক্তির উপায় করে দেওয়া বা তার জীবন রক্ষা করা সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করার সমতুল্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেন: "যে ব্যক্তি কোনো একটি প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল।" (সূরা আল-মায়েদা: ৩২)। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দুনিয়ার কোনো কষ্ট বা বিপদ দূর করে দেয়, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তার কঠিন বিপদসমূহের একটি দূর করে দেবেন।" (সহীহ মুসলিম: ২৬৯৯)। অন্য হাদিসে এসেছে, যখন কোনো ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ভাইয়ের পাশে বসে বা তাকে দেখতে যায়, তখন সে জান্নাতের বাগানে বিচরণ করতে থাকে যতক্ষণ না সে ফিরে আসে। আর যখন সে তার ওষুধের ব্যবস্থা করে বা রোগমুক্তিতে সাহায্য করে, তখন ৭০ হাজার ফেরেশতা তার জন্য আল্লাহর দরবারে রহমতের দোয়া করতে থাকে।
সূরা আল-মায়েদা (আয়াত: ৩২)আল-কোরআনুল কারীম

"যে ব্যক্তি কোনো একটি মানুষকে জীবন দান করল (বা রক্ষা করল), সে যেন সমস্ত মানবজাতিকে জীবন দান করল।"

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুপবিত্র বাণীসূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৫৬৯

"কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন: হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম অথচ তুমি আমাকে সেবা করোনি... তুমি কি জানতে না আমার অমুক বান্দা অসুস্থ ছিল? তুমি তার পাশে দাঁড়ালে আমাকেই সেখানে পেতে।"

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুপবিত্র বাণীসূত্র: সহীহ মুসলিম: ২৬৯৯

"যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবী কষ্ট দূর করে দেবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার আখেরাতের কষ্ট দূর করে দেবেন।"

৩

ইসলামী শরীয়াহ ও ফিকহী নীতিমালা

ইসলামী শরীয়াহর প্রধান পাঁচটি উদ্দেশ্যের অন্যতম হলো 'হিফজুন নাফস' বা মানবজীবনের সুরক্ষা। জীবন রক্ষার্থে সামর্থ্যবানদের উদ্বৃত্ত সম্পদ দিয়ে অভাবী মানুষের চিকিৎসা করানো অত্যন্ত সওয়াবের কাজ এবং এটি যাকাত ও সাধারণ সাদাকাহর অন্যতম উত্তম খাত। যে সকল দরিদ্র রোগী অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না, শরীয়াহ অনুযায়ী তাদেরকে যাকাত ও ওয়াজিব সদকার অর্থ থেকে এককালীন বা প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের খরচ প্রদান করা সম্পূর্ণ বৈধ ও অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে ফাউন্ডেশনের নিজস্ব স্বচ্ছতা নীতিমালা অনুসারে, কোনো নগদ টাকা রোগীর হাতে না দিয়ে সরাসরি হাসপাতাল বিল বা ফার্মেসির ইনভয়েস পরিশোধ করা হয়, যাতে টাকার অপব্যবহার না হয় এবং প্রতিটি টাকার শতভাগ সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত থাকে।
৪

রৌমারীতে মাঠপর্যায়ের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রৌমারীর চরাঞ্চলে ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক জটিল রোগীকে সফল অস্ত্রোপচার ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: ১. একটি 'স্থায়ী চিকিৎসা সহায়তা তহবিল' গঠন করা, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে অন্তত ২০ জন জটিল রোগীকে নিরবচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। ২. নদীমাতৃক চরের জন্য একটি 'বোট অ্যাম্বুলেন্স' বা জরুরি নৌ-পরিবহন সেবা চালু করা, যাতে মুমূর্ষু রোগীকে তাৎক্ষণিক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা যায়।
তহবিল 'ক' • দান ও সদকা

এই কর্মসূচিতে আপনার হাত বাড়িয়ে দিন

আপনার প্রতিটি পয়সা সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্টভাবে এই সেবায় ব্যয় হবে। প্রতিটি খরচের রশিদ সংরক্ষিত ও প্রকাশিত।

অন্যান্য মানবিক কর্মসূচিসমূহ

খাদ্য সহায়তা ও পুষ্টি নিরাপত্তা কর্মসূচিচরের অনাহারী ও চরম দরিদ্র পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণশীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ কর্মসূচিকুড়িগ্রামের হিমশীতল উত্তরের চরে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের উষ্ণতা নিশ্চিতকরণস্বাবলম্বীকরণ ও টেকসই জীবিকা উন্নয়নক্ষুদ্র ব্যবসা, কারিগরি উপকরণ ও হাঁস-মুরগি/গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে স্থায়ী আত্মনির্ভরশীলতাদরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিমেধাবী কিন্তু চরম অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও শিক্ষাসামগ্রী অনুদানবন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন জরুরি ত্রাণ কর্মসূচিনদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চরের মানুষের তাৎক্ষণিক উদ্ধার, আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা