নিবন্ধন প্রক্রিয়াধীন
কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারী লোগো
কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারীসুদমুক্ত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন প্রকল্প
দান
সকল মানবিক কর্মসূচি
মানবিক কর্মসূচিশীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ কর্মসূচি
তহবিল 'ক' • শীতকালীন ত্রাণ

শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ কর্মসূচি

কুড়িগ্রামের হিমশীতল উত্তরের চরে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের উষ্ণতা নিশ্চিতকরণ

প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা: ৳ ২,০০,০০০ (চলতি পর্ব)১০০% আমানতদারিতা ও আলাদা ব্যাংক লেজার
১

মাঠপর্যায়ের সেবার বিবরণ ও বাস্তবতা

কুড়িগ্রাম জেলা বাংলাদেশের সর্বউত্তরের অন্যতম শীতলতম জনপদ। শীতকালে হিমালয়ের নিকটবর্তী হওয়ার কারণে এখানে তাপমাত্রা প্রায়ই নেমে যায় এবং ভয়াবহ শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। বিশেষ করে রৌমারী উপজেলার চরাঞ্চলগুলোতে যখন কুয়াশাচ্ছন্ন হিমেল বাতাস বইতে থাকে, তখন বাঁশের বেড়া ও খড়ের ছাউনিযুক্ত জরাজীর্ণ কুটিরে বসবাসকারী দরিদ্র পরিবারগুলোর দুর্ভোগ অবর্ণনীয় হয়ে পড়ে। চরের ছিন্নমূল শিশু, বয়োবৃদ্ধ মুরুব্বী এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাবে প্রচণ্ড শীতে কাঁপতে থাকে। প্রতি বছর শীতজনিত রোগ—যেমন নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত জ্বরে বহু অসহায় শিশু ও বৃদ্ধ আক্রান্ত হন। অনেক পরিবার খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের পাশে রাত পার করে। কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন প্রতি বছর শীতের শুরুতে 'শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ কর্মসূচি' পরিচালনা করে। আমরা পাইকারি বাজার থেকে টেকসই, ঘন ও ভারী কম্বল এবং শিশুদের জন্য উষ্ণ সোয়েটার ও জ্যাকেট সরাসরি সংগ্রহ করি, যাতে প্রতিটি সামগ্রী একাধিক বছর ব্যবহার উপযোগী থাকে। আমাদের বিতরণ প্রক্রিয়ার বৈশিষ্ট্য: ১. ইউনিয়নভিত্তিক প্রতিটি প্রত্যন্ত চর জরিপ করে অতিদরিদ্র, প্রবীণ ও এতিম শিশুদের অগ্রাধিকার তালিকা প্রণয়ন। ২. রাতে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রকৃত অভাবীদের হাতে কম্বল পৌঁছে দেওয়া, যাতে কোনো অপব্যবহার না হয়। ৩. কম্বলের পাশাপাশি প্রবীণদের জন্য চাদর এবং শিশুদের জন্য থার্মাল পোশাক সরবরাহ। ৪. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে সমন্বয় রেখে শতভাগ স্বচ্ছতার সাথে বিতরণ প্রতিবেদন প্রকাশ।
২

কোরআন ও হাদিসের আলোকে কাজের সওয়াব ও মর্যাদা

বস্ত্রহীন মানুষকে পোশাক পরানো এবং শীতে কষ্ট পাওয়া অসহায় মানুষের উষ্ণতার ব্যবস্থা করা ইসলামের দৃষ্টিতে অতি মহৎ ও পুণ্যময় কাজ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন যে, বস্ত্রহীনের শরীরে বস্ত্র তুলে দেওয়া জান্নাতের রেশমি পোশাক লাভের নিশ্চিত উপায়। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: "যে কোনো মুমিন কোনো বস্ত্রহীন মুমিনকে পোশাক পরিধান করাবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তাকে জান্নাতের সবুজ রঙের রেশমি পোশাক পরিধান করাবেন। আর যে কোনো ক্ষুধার্ত মুমিনকে আহার করাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের সুস্বাদু ফল আহার করাবেন।" (জামে তিরমিযী: ২৪৪৯, সুনানে আবু দাউদ: ১৬৮২)। অন্য হাদিসে এসেছে: "কোনো মুসলমান যখন অপর কোনো মুসলমানকে একটি পোশাক পরায়, যতক্ষণ পর্যন্ত সেই কাপড়ের একটি টুকরাও ওই ব্যক্তির শরীরে থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত দানকারী ব্যক্তি আল্লাহর হেফাজত ও রক্ষণাবেক্ষণে থাকে।" (মুসতাদরাকে হাকেম, তিরমিযী)। প্রচণ্ড ঠান্ডার তীব্রতা থেকে আল্লাহর একজন সৃষ্টিকে বাঁচানো জান্নাতের সুশীতল ছায়া লাভের এক অনন্য উপায়।
সূরা আলে ইমরান (আয়াত: ৯২)আল-কোরআনুল কারীম

"তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত কল্যাণ ও পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় জিনিস থেকে আল্লাহর পথে ব্যয় করবে।"

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুপবিত্র বাণীসূত্র: জামে তিরমিযী: ২৪৪৯

"যে কোনো মুমিন কোনো বস্ত্রহীন মুমিনকে পোশাক পরিধান করাবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে জান্নাতের সবুজ রেশমি পোশাক পরাবেন।"

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুপবিত্র বাণীসূত্র: সুনানে তিরমিযী ও হাকেম

"কোনো মুসলিম যখন অপর মুসলিমকে পোশাক পরায়, সেই কাপড়ের একটি অংশ গায়ে থাকা পর্যন্ত দানকারী আল্লাহর হেফাজতে থাকে।"

৩

ইসলামী শরীয়াহ ও ফিকহী নীতিমালা

তীব্র শীতে অসহায় মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষা করা ইসলামী শরীয়াহর সাধারণ নির্দেশনার অন্তর্ভুক্ত। শীতবস্ত্র ক্রয় ও বিতরণের জন্য যাকাত ও নফল সদকা উভয় তহবিল থেকেই অর্থ ব্যয় করা জায়েয। শরীয়াহ বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন যে, যদি প্রচণ্ড শীতে মানুষের জীবন বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়, তবে খাদ্য ও শীতবস্ত্র সরবরাহ করা অত্যাবশ্যকীয় ওয়াজিব দায়িত্বে পরিণত হয়। ফাউন্ডেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, শীতবস্ত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো নিম্নমানের বা পাতলা কম্বল ক্রয় করা হয় না; বরং যা নিজের পরিবারের জন্য পছন্দনীয়, ঠিক সেই মানের মজবুত ও উষ্ণ কম্বলই দান করা হয়, যা পবিত্র কোরআনের নির্দেশ: "তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত পুণ্য অর্জন করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে দান করবে।" (সূরা আলে ইমরান: ৯২)।
৪

রৌমারীতে মাঠপর্যায়ের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

গত শীত মৌসুমে রৌমারীর দুর্গম ফলুয়ার চর, দাঁতভাঙ্গা ও বন্দবেড় এলাকায় এক হাজারেরও বেশি পরিবারের মাঝে উন্নত মানের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা হলো প্রতি বছর শীতের আগেই অন্তত ২,০০০ কম্বল ও শীতবস্ত্রের একটি আপদকালীন রিজার্ভ তৈরি রাখা, যাতে শৈত্যপ্রবাহ শুরুর প্রথম দিন থেকেই চরের মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়।
তহবিল 'ক' • দান ও সদকা

এই কর্মসূচিতে আপনার হাত বাড়িয়ে দিন

আপনার প্রতিটি পয়সা সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্টভাবে এই সেবায় ব্যয় হবে। প্রতিটি খরচের রশিদ সংরক্ষিত ও প্রকাশিত।

অন্যান্য মানবিক কর্মসূচিসমূহ

খাদ্য সহায়তা ও পুষ্টি নিরাপত্তা কর্মসূচিচরের অনাহারী ও চরম দরিদ্র পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণজরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচিচিকিৎসাহীন দরিদ্র রোগীদের ওষুধ, অস্ত্রোপচার ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা অনুদানস্বাবলম্বীকরণ ও টেকসই জীবিকা উন্নয়নক্ষুদ্র ব্যবসা, কারিগরি উপকরণ ও হাঁস-মুরগি/গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে স্থায়ী আত্মনির্ভরশীলতাদরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিমেধাবী কিন্তু চরম অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও শিক্ষাসামগ্রী অনুদানবন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন জরুরি ত্রাণ কর্মসূচিনদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চরের মানুষের তাৎক্ষণিক উদ্ধার, আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা