
মোঃ শাহ আলম
Md. Shah Alam
মাটির মানুষ থেকে মানবিক বাতিঘর: চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ শাহ আলম-এর অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনসংগ্রাম ও সমাজসেবার ইতিবৃত্ত
ইছাকুড়ী গ্রামের শ্যামল কোলে শৈশব ও দারিদ্র্যের কশাঘাত
দরিদ্র কৃষক পিতার স্নেহ ও বাস্তব জীবনের প্রথম পাঠশালা
কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তঘেঁষা নদীবিধৌত এক অবহেলিত জনপদ রৌমারী উপজেলা। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন আর প্রতি বছরের বন্যার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকা এই অঞ্চলের প্রত্যন্ত এক পল্লি ইছাকুড়ি গ্রাম। এই ইছাকুড়ি গ্রামের এক নিতান্তই সাধারণ ও দরিদ্র কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মোঃ শাহ আলম। শৈশবের প্রথম প্রহরে যে আলো-বাতাস তিনি পেয়েছিলেন, তা ছিল নিদারুণ অভাব আর অনটনে ঘেরা বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।
তাঁর পিতা ছিলেন একজন সাদাসিধে ও অত্যন্ত পরিশ্রমী কৃষক। রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে চাষাবাদ করে অতি কষ্টে সংসার চালাতেন তিনি। কৃষক পিতার ঘরে বেড়ে ওঠার কারণে মোঃ শাহ আলম খুব কাছ থেকে দেখেছেন চরাঞ্চলের মানুষের ক্ষুধা ও বেঁচে থাকার কান্না। তবে নিদারুণ দারিদ্র্য থাকলেও পরিবার থেকে তিনি পেয়েছিলেন সততা, চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং মানুষের প্রতি মমত্ববোধের অমূল্য দীক্ষা, যা সারাজীবন তাঁর চলার পথের প্রধান পাথেয় হয়েছে।
ছোটবেলা থেকেই জীবনসংগ্রাম ও প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই
অনটনের মাঝেও হার না মানা মনোবল ও স্বাবলম্বী হওয়ার প্রত্যয়
মোঃ শাহ আলমের শৈশব অন্য দশজন কিশোরের মতো নিশ্চিত ছিল না। খুব ছোটবেলা থেকেই জীবনের প্রতিটি ধাপে তাঁকে টিকে থাকার তীব্র জীবনসংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অভাবের কারণে যেখানে পড়াশোনার খরচ চালানোই ছিল কঠিন, সেখানে তিনি অদম্য ইচ্ছা ও ধৈর্যকে সম্বল করে এগিয়ে গেছেন। প্রতিকূল পারিপার্শ্বিকতা তাঁকে কখনো লক্ষ্যচ্যুত করতে পারেনি; বরং প্রতিটি আঘাত তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।
কিশোর বয়সেই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, নিয়তির দোহাই দিয়ে বসে থাকলে ভবিষ্যৎ বদলায় না। বাবার কষ্ট লাঘব করতে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি নানা বাস্তবমুখী পরিশ্রমে যুক্ত হন। রৌমারীর তপ্ত ধুলোমাটি আর টিকে থাকার লড়াই থেকেই তিনি জীবনের প্রকৃত দর্শন ও মানবিক মূল্যবোধের শিক্ষা অর্জন করেছিলেন।
মেডিসিন জগতে পদার্পণ ও কঠোর পরিশ্রমে কর্পোরেট সফলতা
মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে প্রথম সারির কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা
কঠিন সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে মোঃ শাহ আলম কর্মজীবনের সূচনালগ্নে ওষুধ শিল্পে (Medicine Sector) যুক্ত হন। এই সেক্টরে তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন একজন সাধারণ মেডিসিন রিপ্রেজেন্টেটিভ (Medical Representative) হিসেবে। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্লিনিক, হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের দ্বারে দ্বারে ছুটে চলা ছিল তাঁর প্রতিদিনের রুটিন।
তিনি প্রতিটি দায়িত্ব পালন করেছেন শতভাগ সততা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে। চিকিৎসকদের আস্থা অর্জন এবং ওষুধ সেবায় শৃঙ্খলা বজায় রেখে তিনি খুব দ্রুতই সহকর্মী ও কর্তৃপক্ষের প্রিয়ভাজন হয়ে ওঠেন। দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে তিনি ধাপে ধাপে নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখেন।
কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একের পর এক পদোন্নতি অর্জন করেন। বর্তমানেও তিনি দেশের একটি খ্যাতনামা ও প্রথম সারির কোম্পানিতে উচ্চ ও দায়িত্বশীল পদে অত্যন্ত সুনামের সাথে কর্মরত রয়েছেন। তৃণমূল রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে শুরু করে আজ শীর্ষ কর্পোরেট পদে অধিষ্ঠিত হওয়া তাঁর আত্মত্যাগ ও প্রজ্ঞার উজ্জ্বল স্মারক।
স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক উদ্যোগ: 'লাইফ কেয়ার হাসপাতাল' পরিচালনা
রৌমারীর মানুষের দ্বারে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসার সূচনা
মেডিসিন জগতে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা মোঃ শাহ আলমকে দেশের স্বাস্থ্যসেবার তৃণমূল চিত্র গভীরভাবে জানার সুযোগ দেয়। বিশেষ করে নিজ জন্মভূমি রৌমারী উপজেলার চিকিৎসাসেবার সংকট তাঁকে প্রচণ্ড ব্যথিত করত। কুড়িগ্রামের এই বিচ্ছিন্ন অঞ্চলের মানুষকে সামান্য চিকিৎসার জন্যও ব্রহ্মপুত্র পাড়ি দিয়ে রংপুর বা জেলা সদরে যেতে হতো, পথে বহু মুমূর্ষু রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা যেতেন।
এই সংকট দূর করতে মোঃ শাহ আলম এলাকায় একটি আধুনিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার সংকল্প নেন। তাঁর অবিচল নেতৃত্বে রৌমারী সদরে গড়ে ওঠে 'লাইফ কেয়ার হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার'। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ম্যানেজিং ডিরেক্টর) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘ বছর ধরে এই স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসায়ের সাথে সফলভাবে যুক্ত রয়েছেন।
লাইফ কেয়ার হাসপাতাল আজ রৌমারীর মানুষের ভরসার প্রতীক। ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক ল্যাব, অভিজ্ঞ চিকিৎসক, মানসম্মত অপারেশন থিয়েটার ও সার্বক্ষণিক সেবার মাধ্যমে তিনি চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করেছেন।
অসহায় মানুষের চিকিৎসা, এনজিও সমন্বয় ও মানবিক অভিভাবকত্ব
টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হবে না—এই ব্রতে নিরবচ্ছিন্ন সেবা
মোঃ শাহ আলমের অনন্য গুণ হলো তিনি অতীতকে কখনো ভুলে যাননি। সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও তিনি নিজেকে সেই সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান মনে করেন। অসহায় ও নিঃস্ব মানুষের প্রতি তাঁর অন্তরে রয়েছে গভীর ও অকৃত্রিম ভালোবাসা। তিনি সার্বক্ষণিক এলাকার গরিব মানুষদের খোঁজখবর তদারকি করেন।
লাইফ কেয়ার হাসপাতালে এসে কোনো অসহায় রোগীকে অর্থাভাবে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যেতে হয় না। তাঁর ব্যক্তিগত নির্দেশনায় চরাঞ্চলের নিঃস্ব, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও দিনমজুর রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অথবা নামমাত্র খরচে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। শত শত জটিল প্রসূতি সেবা ও জরুরি অপারেশন তিনি নিজ খরচে সম্পন্ন করেছেন।
শুধু নিজ হাসপাতালেই নয়, জটিল রোগের ক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় এনজিও এবং মানবিক সংস্থার সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে রোগীদের বড় অপারেশনের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করেন। মানুষের মুখে স্বস্তির হাসি ফোটানোই তাঁর জীবনের পরম তৃপ্তি।
মহাজনী সুদের বিরুদ্ধে অবস্থান ও কর্জে হাসানা আন্দোলনের সূচনা
শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে ১০০% সুদমুক্ত অর্থায়ন
রৌমারীর চরাঞ্চলের কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জীবন সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হতো মহাজনী চড়া সুদের ফাঁদে। ফসলহানি বা জরুরি প্রয়োজনে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে ভিটামাটি হারিয়ে নিঃস্ব হতো শত শত পরিবার। চোখের সামনে এই মানবিক বিপর্যয় দেখে মোঃ শাহ আলমের বিবেক আলোড়িত হয়।
তিনি বুঝতে পারেন, শুধু মৌখিক উপদেশে সুদের শোষণ বন্ধ হবে না; এর জন্য প্রয়োজন একটি কল্যাণমুখী ও ইসলামী শরীয়াহ-সম্মত সুদমুক্ত বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামো। সেই প্রত্যয় থেকেই ২০২৬ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন 'কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারী' এবং নিজে এর চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সম্পূর্ণ ১০০% সুদমুক্ত কর্জে হাসানা প্রকল্প (তহবিল 'খ')-এর মাধ্যমে তিনি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষকে কোনো সুদ বা অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই ঋণ সুবিধা প্রদান করছেন, যা মানুষকে স্বাবলম্বী করার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
জীবনদর্শন, অমায়িক সরলতা ও আগামীর মানবিক স্বপ্ন
মাটির মানুষের সাথে নিবিড় বন্ধন ও একটি মডেল রৌমারী গড়ার প্রত্যয়
ব্যবসায়িক ও সামাজিক উচ্চ অবস্থান থাকা সত্ত্বেও মোঃ শাহ আলম ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত বিনয়ী ও সাদাসিধে মানুষ। সাধারণ মানুষের সাথে সহজে মিশে যাওয়ার সহজাত গুণ তাঁর রয়েছে। রিকশাচালক থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত চরের কৃষক—সবার সাথেই তিনি সমান আন্তরিকতায় কথা বলেন এবং তাদের সুখ-দুঃখের খোঁজ নেন।
তাঁর মুঠোফোন নম্বর ০১৯৬৬-৪৪২৭৬৯ সর্বদা খোলা থাকে মানুষের প্রয়োজনে। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই যে কেউ সরাসরি তাঁর সাথে কথা বলতে পারেন। তাঁর স্বপ্ন রৌমারীকে একটি আদর্শ ও শোষণমুক্ত মানবিক জনপদে রূপান্তর করা, যেখানে কেউ অর্থাভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত হবে না এবং সুদের দায়ে ভিটেমাটি হারাবে না।
এক নজরে জীবনবৃত্তান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি:
সুদমুক্ত রৌমারী বিনির্মাণে আপনিও শরিক হোন
মোঃ শাহ আলমের এই মহান মানবিক উদ্যোগে আপনার পরামর্শ বা অনুদান দিয়ে পাশে থাকুন।

সামাজিক সংগঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা ও যুবসমাজের কল্যাণ
তরুণ প্রজন্মকে মানবিক কাজে সম্পৃক্তকরণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি মোঃ শাহ আলম রৌমারীর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। একাধিক সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত এবং সেগুলোতে নিয়মিত যথোপযুক্ত দিকনির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি বিশ্বাস করেন, মানবিক সমাজ গঠনে যুবসমাজকে ভালো কাজে সম্পৃক্ত করা জরুরি। তাই তিনি তরুণদের রক্তদান, শীতার্তদের বস্ত্র বিতরণ, দুর্যোগে ত্রাণ সহায়তা ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সাহায্যে উৎসাহিত করেন। যে কোনো সংকটে তিনিই হয়ে ওঠেন সর্বাগ্রে পাশে দাঁড়ানো নির্ভরযোগ্য অভিভাবক।