সকল মানবিক কর্মসূচি
মানবিক কর্মসূচিখাদ্য সহায়তা ও পুষ্টি নিরাপত্তা কর্মসূচি
তহবিল 'ক' • মানবিক খাদ্য সহায়তা
খাদ্য সহায়তা ও পুষ্টি নিরাপত্তা কর্মসূচি
চরের অনাহারী ও চরম দরিদ্র পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ
প্রস্তাবিত লক্ষ্যমাত্রা: ৳ ২,৫০,০০০ (চলতি পর্ব)১০০% আমানতদারিতা ও আলাদা ব্যাংক লেজার
১
মাঠপর্যায়ের সেবার বিবরণ ও বাস্তবতা
কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলা ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার করাল গ্রাসে বিভক্ত একটি চরম নদীভাঙন ও পশ্চাৎপদ চরাঞ্চল। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তীব্র বন্যা এবং শীত মৌসুমে কনকনে ঠান্ডায় কর্মহীন হয়ে পড়ে চরের হাজারো খেটে খাওয়া দিনমজুর, কৃষি শ্রমিক ও মৎস্যজীবী পরিবার। যখন নদীগর্ভে কৃষি জমি ও বসতভিটা বিলীন হয়ে যায়, তখন বহু পরিবারের ঘরে চুলা জ্বলে না। শিশুরা মারাত্মক অপুষ্টিতে ভোগে এবং বৃদ্ধরা অর্ধাহারে দিনাতিপাত করেন।
কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন, রৌমারী এই চরম মানবিক সংকটে নিরপেক্ষ ও আমানতদারিতার সাথে 'খাদ্য সহায়তা ও পুষ্টি নিরাপত্তা কর্মসূচি' পরিচালনা করছে। আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দল সরেজমিনে প্রতিটি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চরে গিয়ে প্রকৃত অভাবী, স্বামীহারা বিধবা, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও চরম সংকটাপন্ন পরিবারগুলোকে তালিকাভুক্ত করে। আমরা কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা আত্মীয়তার পক্ষপাতিত্ব ছাড়া কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মানবিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে খাদ্য প্যাকেট বিতরণ করি।
প্রতিটি খাদ্য প্যাকেটে অন্তর্ভুক্ত থাকে:
১. উচ্চমানের চাল (মিনিকেট/বিআর-২৮) - ১৫ কেজি
২. পুষ্টিকর মসুর ডাল - ২ কেজি
৩. পরিশোধিত সয়াবিন তেল - ২ লিটার
৪. আয়োডিনযুক্ত লবণ - ১ কেজি
৫. দেশি পেঁয়াজ ও রসুন - ২ কেজি
৬. আলু - ৫ কেজি
৭. শিশুদের জন্য গুঁড়া দুধ ও সুজি প্যাকেট।
এই খাদ্য সহায়তা কোনো সাময়িক প্রদর্শনীর অংশ নয়; বরং প্রতিটি পরিবারের সদস্য সংখ্যার ভিত্তিতে অন্তত ১৫ থেকে ৩০ দিনের পূর্ণ পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্যাকেজের পরিমাণ নির্ধারিত হয়। বিতরণকালে সুবিধাভোগীদের লাইনে দাঁড় করিয়ে তাদের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হয় না; বরং আমাদের স্বেচ্ছাসেবীরা রাতের আঁধারে বা সম্মানজনকভাবে ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেয়।
২
কোরআন ও হাদিসের আলোকে কাজের সওয়াব ও মর্যাদা
ইসলামে ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়াকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেক আমল এবং জান্নাতে প্রবেশের প্রধানতম মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে মুমিনদের অন্যতম প্রধান গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে ইরশাদ করেছেন যে, তারা কেবল আল্লাহর ভালোবাসায় এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভের আশায় অভাবী ও ক্ষুধার্তকে আহার করায়।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বহু হাদিসে ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করার অসীম ফজিলত বর্ণনা করেছেন। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করলেন, তখন তাঁর মুখনিঃসৃত প্রথম বাণীগুলোর অন্যতম ছিল: "হে লোকসকল! তোমরা সালামের ব্যাপক প্রচার করো, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করো, আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখো এবং মানুষ যখন রাতে ঘুমিয়ে থাকে তখন নামাজ আদায় করো; তাহলে তোমরা নিরাপদে ও শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে।" (জামে তিরমিযী: ২৪৮৫)।
অন্য এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন: "যে কোনো মুসলমান কোনো ক্ষুধার্ত মুসলমানকে আহার করাবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তাকে জান্নাতের সুস্বাদু ফল আহার করাবেন। আর যে কোনো তৃষ্ণার্ত মুসলমানকে পানি পান করাবে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের মোহরাঙ্কিত সুরা পান করাবেন।" (আবু দাউদ ও তিরমিযী)।
বিশেষ করে দুর্ভিক্ষ, দুর্যোগ ও চরম অভাবের সময়ে খাবার দান করা জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম লাভের চাবিকাঠি। আল্লাহ তায়ালা সূরা বালাদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সংকটের দিনে অন্নদান করা সেই দুর্গম গিরিপথ অতিক্রম করার মতো, যা মানুষকে চিরস্থায়ী জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে জান্নাতের অধিকারী বানায়। এক লোক রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, "ইসলামের কোন কাজটি সবচেয়ে উত্তম?" তিনি জবাব দিলেন: "তুমি মানুষকে খাবার খাওয়াবে এবং পরিচিত-অপরিচিত নির্বিশেষে সকলকে সালাম দেবে।" (সহীহ বুখারী: ১২)।
সূরা আল-ইনসান (আদ-দাহর) (আয়াত: ৮-৯)আল-কোরআনুল কারীম
"তারা আল্লাহর ভালোবাসায় অভাবগ্রস্ত, এতিম ও বন্দীদের খাবার খাওয়ায় এবং বলে: আমরা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদের আহার করাচ্ছি, তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা কামনা করি না।"
সূরা আল-বালাদ (আয়াত: ১৪-১৬)আল-কোরআনুল কারীম
"অথবা দুর্ভিক্ষের দিনে আহার করানো— এতিম আত্মীয়কে কিংবা ধূলিমলিন নিঃস্ব অভাবীকে।"
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুপবিত্র বাণীসূত্র: জামে তিরমিযী: ২৪৮৫ (সহীহ)
"হে লোকসকল! তোমরা সালামের প্রচার করো, ক্ষুধার্তকে খাদ্য দান করো এবং মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সালাত আদায় করো; তাহলে শান্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সুপবিত্র বাণীসূত্র: সুনানে আবু দাউদ: ১৬৮২
"যে মুসলমান অপর কোনো ক্ষুধার্ত মুসলমানকে খাবার খাওয়াবে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিন তাকে জান্নাতের সুস্বাদু ফল আহার করাবেন।"
৩
ইসলামী শরীয়াহ ও ফিকহী নীতিমালা
ইসলামী শরীয়াহ ও ফিকহের দৃষ্টিতে সমাজে অনাহারী ও ক্ষুধার্ত মানুষ থাকা অবস্থায় সামর্থ্যবানদের ওপর তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ফরজে কেফায়া (সামষ্টিক বাধ্যতামূলক দায়িত্ব)। যদি কোনো এলাকায় খাদ্যাভাবের কারণে একজন মানুষও মারা যায় বা চরম কষ্টে পতিত হয়, তবে সেখানকার সকল সামর্থ্যবান ব্যক্তি আল্লাহর দরবারে দায়ী থাকবে।
ইমাম ইবনে তাইমিয়্যা (রহ.) এবং ইমাম নববী (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে, ক্ষুধার্তের ক্ষুধা নিবারণ করা নফল ইবাদতের চেয়েও অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারযোগ্য। অভাবগ্রস্ত মানুষের ক্ষুধা নিবারণ আত্মরক্ষা ও মানবজাতি সুরক্ষার শরীয়াহ মাকাসিদের (মাকাসিদ আশ-শরীয়াহ) অন্তর্ভুক্ত।
দানকৃত খাদ্য সামগ্রী বিতরণে পূর্ণ আমানত বজায় রাখা শরীয়াহর অন্যতম মূল শর্ত। ফাউন্ডেশনের তহবিল 'ক' (দান ও যাকাত তহবিল)-এর প্রতিটি পয়সা সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাংকিং লেজারে হিসাবভুক্ত হয়। কোনোভাবেই প্রশাসনিক ব্যয় বা ঋণ তহবিলের অর্থ খাদ্য সহায়তার সাথে মিশ্রিত করা হয় না। যে অর্থ খাদ্য সামগ্রী ক্রয়ের জন্য দান করা হয়, তা দ্বারা শুধুমাত্র মানসম্মত ও হালাল খাদ্যই ক্রয় করে অভাবীদের হাতে শতভাগ তুলে দেওয়া হয়।
৪
রৌমারীতে মাঠপর্যায়ের প্রভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রৌমারীর যাদুরচর, শৌলমারী, দাঁতভাঙ্গা ও বন্দবেড় ইউনিয়নের ভাঙনকবলিত চরাঞ্চলে গত এক বছরে কর্জে হাসানা ফাউন্ডেশন শত শত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে। আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো:
১. একটি স্থায়ী 'জরুরি খাদ্য ভাণ্ডার (Grain Bank)' গড়ে তোলা, যাতে যেকোনো আকস্মিক বন্যা বা দুর্যোগে তাৎক্ষণিক ৭২ ঘণ্টার মধ্যে খাবার সরবরাহ করা যায়।
২. চরাঞ্চলের গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং নবজাতকদের জন্য পুষ্টি সম্পূরক খাদ্য বিতরণের স্থায়ী তহবিল গঠন।
৩. প্রতিটি বিতরণকৃত সামগ্রীর ক্রয় রশিদ, ভাউচার ও নিরীক্ষিত অডিট রিপোর্ট ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রাখা যাতে দানকারী নিশ্চিত হতে পারেন যে তার প্রতিটি টাকা সঠিক স্থানে ব্যয় হয়েছে।
তহবিল 'ক' • দান ও সদকা
এই কর্মসূচিতে আপনার হাত বাড়িয়ে দিন
আপনার প্রতিটি পয়সা সম্পূর্ণ সুনির্দিষ্টভাবে এই সেবায় ব্যয় হবে। প্রতিটি খরচের রশিদ সংরক্ষিত ও প্রকাশিত।
অন্যান্য মানবিক কর্মসূচিসমূহ
খাদ্য সহায়তা ও পুষ্টি নিরাপত্তা কর্মসূচিচরের অনাহারী ও চরম দরিদ্র পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেওয়া এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণজরুরি চিকিৎসা সহায়তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচিচিকিৎসাহীন দরিদ্র রোগীদের ওষুধ, অস্ত্রোপচার ও জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা অনুদানশীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ কর্মসূচিকুড়িগ্রামের হিমশীতল উত্তরের চরে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের উষ্ণতা নিশ্চিতকরণস্বাবলম্বীকরণ ও টেকসই জীবিকা উন্নয়নক্ষুদ্র ব্যবসা, কারিগরি উপকরণ ও হাঁস-মুরগি/গবাদিপশু পালনের মাধ্যমে স্থায়ী আত্মনির্ভরশীলতাদরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিমেধাবী কিন্তু চরম অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ ও শিক্ষাসামগ্রী অনুদানবন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকালীন জরুরি ত্রাণ কর্মসূচিনদীভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চরের মানুষের তাৎক্ষণিক উদ্ধার, আশ্রয় ও খাদ্য সহায়তা
